একটি অপুষ্ট নবজাতকের গল্প

রিমা ও জাকির তাদের ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে আসলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত সাজেদা হাসপাতালে। শিশুটির জন্ম হয়েছিল তীব্র অপুষ্টি নিয়ে। রিমা-জাকির হাসপাতালের ডাক্তারদের জানালেন যে জন্মের পর শিশুটি মায়ের দুধটুকুও চুষে খেতে পারছিল না দূর্বলতার জন্য। খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছিল তাদের বাচ্চাটাকে নিয়ে। জন্মের পর শিশুটিকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অবস্থার কোন উন্নতিই হচ্ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে সাজেদা হাসপাতালের এনআইসিইউ-তে নিয়ে এলো তারা তাদের শিশুটিকে।
হাসপাতালে ভর্তির পর অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা আর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার পর ডাক্তাররা জানতে পারলেন, শিশুটি জন্মের সময় রিমা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিল বলে তার নরমাল ডেলিভারী সম্ভব হয়নি। মাত্র ৩২ সপ্তাহ গর্ভাধারনের পর অর্থাৎ সাধারণ সময়ের চেয়ে ৫ সপ্তাহ আগেই সিজার করে শিশুটিকে বের করে আনা হয়। এর ফলে মাত্র ৯৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুটি জন্মগত ভাবেই শিশুটিকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে শুরু করে। সাজেদা হাসপাতালে ভর্তির বেশ কিছুদিন পরে, ধীরে ধীরে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। আস্তে আস্তে শিশুটির ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকল আর শিশুটি কিছু শক্তিও পেতে থাকল। রিমা-জাকিরের খুশির কোন সীমা থাকে না তাদের বাচ্চার এই উন্নতি দেখে। তারা সাজেদা হাসপাতালের সকল ডাক্তার ও কর্মী, বিশেষ করে এনআইসিইউ-এর সকল কর্মীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সাজেদা হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের সকল ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হতো না।

leave a comment