এটা কি আমার দোষ?

আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট মেয়েদের আত্মবিশ্বাসকে কিভাবে প্রভাবিত করে তার কোনো হাতে কলমে লেখাজোখা নেই। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ গুলো  যেন  তৈরিই হয়েছে মেয়েদের বহির্বিশ্ব বিমুখ করে রাখাবার জন্য। বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে জন্ম নেওয়া মেয়েটার আদর্শ হিসেবে নিজের সামনে কাউকে দেখেতে পায় না  এবং তার ইচ্ছাও হয় না বড় হয়ে সে একজন অসাধারণ মানুষ হবে। অপার সম্ভাবনাময় এক একজন  মেধাবী,  শুধু আত্মবিশ্বাস এর অভাব এ তাদের সবটুকু মেধা তারা কাজে লাগায় না। অসাধারণ মেধাবী আর উদ্দমী হওয়ার পরেও কোনোও এক অদৃশ্য শক্তির বলে আমাদের সামাজিক নিয়মগুলো মেয়েটাকে শেখাতে সক্ষম হয় যে যত অন্যায়, ভুল বা বৈষম্য তার প্রতি হয়, সে নিজে তার জন্য দায়ী।

খুব সাধারণ একটি উদাহরণ ; ভ্রমণ!  ঘুরে বেড়াতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামের একটি মেয়ে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা এখনো পায়না। কিংবা ধরে নেই, নিজের ইচ্ছামত পোশাক পরার স্বাধীনতা!   প্রতিদিন অসংখ্য মেয়ে হাজারো কটুবাক্য শুনছে শুধু নিজের ইচ্ছামত পোশাক পরার জন্য!
আমাদের রাজধানী শহরের বাইরে প্রাচীন প্রেক্ষাপটিয় ধ্যান ধারণা আর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি খুব বেশি বদলায়নি।  এখনো আত্মবিশ্বাসী নারীদের পথ চলায় হাজারো বাধা আসে প্রতি পদে। এ অবস্থা বদলাতে হলে জনমানুষের দৃষ্টিভঙ্গি  এবং চিন্তা ধারা বদলাতে হবে। আর এর জন্য রুবানা হক অথবা সোনিয়া বশির কবির দের উদাহরণ ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন দেখার আগে চোখ মেলে আকাশটা দেখতে হবে।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে  উদযাপিকত হোক আত্মবিশ্বাসী মা, বোন,কন্যা,স্ত্রী দের পদচারণা।

 

আফওয়াজা রহমান দৃষ্টি
ইয়াং প্রফেশনাল,
এইচ আর এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং
সাজেদা ফাউন্ডেশন

leave a comment